Connect with us

কক্সবাজারের আশেপাশে দর্শনীয় স্থান – ইনানী, হিমছড়ি, রামু বৌদ্ধ মন্দির

কক্সবাজারের আশেপাশে দর্শনীয় স্থান – ইনানী, হিমছড়ি, রামু বৌদ্ধ মন্দির

দর্শনীয় স্থান

কক্সবাজারের আশেপাশে দর্শনীয় স্থান – ইনানী, হিমছড়ি, রামু বৌদ্ধ মন্দির

বাংলাদেশের পর্যটনের হৃদপিণ্ড বলা হয় কক্সবাজারকে, যার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক ছুটে আসেন। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজারের সৌন্দর্য সীমাবদ্ধ নয় শুধুমাত্র সৈকতের জলোচ্ছ্বাসে; বরং এর আশপাশের এলাকাগুলোতেও রয়েছে অসংখ্য প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক দর্শনীয় স্থান। ইনানী বিচ, হিমছড়ি জলপ্রপাত, এবং রামু বৌদ্ধ মন্দির — এই তিনটি স্থান কক্সবাজার ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও বৈচিত্র্যময় ও স্মরণীয় করে তোলে।

ইনানী বিচ – প্রবালপাথরের রাজ্য

ইনানী বিচ কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এক মনোমুগ্ধকর সৈকত। এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো প্রবালপাথরে ঘেরা সৈকতের বিস্তীর্ণ রেখা, যা অন্যান্য সমুদ্র সৈকত থেকে একে আলাদা করে। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় ইনানীর দৃশ্য হৃদয় কাঁপানো। পর্যটকরা সাধারণত দুপুরের পর ইনানীতে পৌঁছান এবং বিকেলের নরম আলোয় প্রবাল পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটেন।

ইনানীর একটি বড় সুবিধা হচ্ছে, এটি তুলনামূলকভাবে কম জনসমাগমপূর্ণ, ফলে যারা একটু নিরিবিলি প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য ইনানী একটি আদর্শ গন্তব্য। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা ঘোড়ার গাড়ি, নারিকেল পানি ও সামুদ্রিক ঝিনুক বিক্রি করে থাকেন, যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে।

হিমছড়ি জলপ্রপাত – পাহাড় ও পানির যুগলবন্দী

হিমছড়ি কক্সবাজার থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি পাহাড়ি অঞ্চল যা তার জলপ্রপাত এবং সবুজ প্রকৃতির জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। হিমছড়ির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি পাহাড় ও সাগরের মাঝখানে অবস্থিত, যা একে প্রাকৃতিক এক অনন্য অবস্থানে পরিণত করেছে। পাহাড় বেয়ে ওঠার পর পর্যটকরা যেভাবে সাগরের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন, তা অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন।

হিমছড়িতে ছোট একটি জলপ্রপাত রয়েছে যা বর্ষাকালে রূপ নেয় এক ঝলমলে জলপ্রবাহে। অনেকেই পাহাড় বেয়ে ওপরে উঠে কক্সবাজার শহর এবং সমুদ্রের প্যানোরামিক ভিউ উপভোগ করেন। এছাড়া এখানকার সবুজ বনভূমি এবং পাখির কিচিরমিচির শব্দ মানসিক প্রশান্তির এক দারুণ উৎস।

রামু বৌদ্ধ মন্দির – ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার মিলনস্থল

রামু কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পূর্বদিকে অবস্থিত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ অধ্যুষিত এলাকা। এখানকার বৌদ্ধ মন্দিরগুলো শুধুমাত্র ধর্মীয় স্থান নয়, বরং এক অসাধারণ পর্যটন কেন্দ্র। রামুতে রয়েছে বিশাল বৌদ্ধ মূর্তি, যা বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ। শুয়ে থাকা বুদ্ধ মূর্তিটি প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ এবং সোনালী রঙে সজ্জিত।

মন্দিরগুলোর স্থাপত্যশৈলী, থাইল্যান্ড এবং মিয়ানমারের প্রভাব বহন করে, যা ভিন্নধর্মী সংস্কৃতির স্বাদ এনে দেয়। এখানকার বৌদ্ধ ভিক্ষুরা অতিথিপরায়ণ এবং অনেক সময় তারা পর্যটকদের বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ করে দেন। রামুর চারপাশের শান্ত পরিবেশ এবং সুউচ্চ পাহাড়ে ঘেরা মন্দির এলাকাটি আধ্যাত্মিক প্রশান্তির উৎস হয়ে উঠেছে বহু পর্যটকের জন্য।

একসাথে ঘোরার পরিকল্পনা – দিনভিত্তিক সাজেশন

কক্সবাজার শহর ঘুরে দেখার পর কেউ চাইলে একদিনে হিমছড়ি ও ইনানী ঘুরে দেখতে পারেন। সকালে হিমছড়ি দিয়ে শুরু করে দুপুরে ইনানী এবং বিকেলে সূর্যাস্ত উপভোগ করে সন্ধ্যার আগেই শহরে ফেরা যায়। আর রামু বৌদ্ধ মন্দির ভ্রমণের জন্য নির্ধারিত করা যেতে পারে ভ্রমণের দ্বিতীয় দিন। এতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে শান্তভাবে দর্শন করা সম্ভব হবে।

সব স্থানই পরিবার, দম্পতি, কিংবা একক ভ্রমণকারীদের জন্য উপযোগী। স্থানীয় পরিবহন যেমন সিএনজি, বাইক ও ট্যুরিস্ট মাইক্রোবাস সহজেই পাওয়া যায় এবং ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী।

শেষ কথা

কক্সবাজারে শুধু সমুদ্র নয়, তার আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা ইনানী বিচের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, হিমছড়ির পাহাড়ি আবহ এবং রামুর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য — এই তিনটির সংমিশ্রণ পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে। তাই কক্সবাজার ঘুরতে গেলে শুধু সৈকতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত ভ্রমণের পরিপূর্ণতা। এই স্থানগুলো শুধু চোখকে নয়, আত্মাকেও তৃপ্তি দেয়।

Continue Reading
You may also like...
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More in দর্শনীয় স্থান

To Top